দেশে চায়ের উৎপাদন বাড়াতে নেয়া হয়েছে নানামুখী উদ্যোগ। যদিও ক্রমাগত লোকসান,নতুন বিনিয়োগে অনীহা এবং সনাতনী আবাদ পদ্ধতির কারণে কৃষিপণ্যটির উৎপাদন না বেড়ে এখন কমতির দিকে।পরিস্থিতিকে আরো সঙ্গীন করে তুলেছে উৎপাদন এলাকায় পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের অভাব। ফলে চলতি বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) দেশে চায়ের উৎপাদন কমেছে প্রায় ৮ শতাংশ।
দেশে চা উৎপাদনের ভরা মৌসুম ধরা হয় জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়কে। বর্ষায় পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতে প্রকৃতিনির্ভর এ উৎপাদন ব্যবস্থা গতি পায়। চলতি বছরের শুরু থেকে জুন পর্যন্ত দেশে চা উৎপাদন হয়েছে ২ কোটি ২৪ লাখ ৯১ হাজার কেজি। গত বছরের একই সময় এর পরিমাণ ছিল ২ কোটি ৪৩ লাখ ৫ হাজার কেজি। এর আগে ২০২৩ সালের জানুয়ারি-জুন পর্যন্ত দেশে চা উৎপাদন হয়েছিল ২ কোটি ৬৫ লাখ ৫১ হাজার কেজি।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের মাসভিত্তিক উৎপাদন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সর্বশেষ জুনে দেশে চা উৎপাদন হয়েছে ৯৮ লাখ ২৫ হাজার কেজি। গত বছরের একই সময় মোট চা উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ২৮ লাখ ৩৭ হাজার কেজি।
জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দেশের বাগানগুলো থেকে চা পাতা সংগ্রহ বন্ধ করা হয়। এ সময় বাগান পরিচর্যা, প্রুনিং বা গাছের ওপরের অংশ ছাঁটাই করে পরবর্তী মৌসুমের জন্য প্রস্তুত করা হয়। এরপর বর্ষা মৌসুমের প্রথম বৃষ্টিপাত থেকে বাগানে নতুন কুঁড়ি জন্মানো শুরু হলে তা থেকে ভালোমানের চা উৎপাদন হয়। এ কারণে বছরের প্রথম দুই-তিন মাস চা উৎপাদন কম হয়। যদিও মার্চ থেকে তা আবার বাড়তে থাকে।
জুনে উৎপাদন ছয় মাসের সর্বোচ্চে পৌঁছে। কিন্তু কয়েক বছর ধরে দেশে নিলামে চায়ের দাম কম থাকায় বাগানগুলোও নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চা উৎপাদনে অনাগ্রহী বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ চা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে দেশে রেকর্ড ১০ কোটি ২৯ লাখ ১৮ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়। পরের বছর ২০২৪ সালে উৎপাদন কিছুটা কমে ৯ কোটি ৩০ লাখ ৪২ হাজার কেজিতে নেমে আসে। চলতি বছর ১০ কোটি ৩০ লাখ কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। তবে জুন পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় উৎপাদন অনেক কমেছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ চা সংসদের সভাপতি কামরান টি রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল চা উৎপাদন। যদিও উৎপাদন খরচ তুলে আনা ও বাগানকে লাভজনক করতে হলে বিকল্প সেচ দিয়েও উৎপাদনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা সম্ভব। তবে সম্প্রতি নিলামে চায়ের দাম কমেছে। এ কারণে বাড়তি বিনিয়োগ করছেন না অধিকাংশ বাগান মালিক। তাছাড়া তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে চা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।’
তিনি বলেন, ‘দেশের চা খাতে ধারাবাহিকভাবে উৎপাদন বৃদ্ধি ও লোকসান এড়ানোর মাধ্যমে বাগানগুলোকে স্বাবলম্বী করার পাশপাশি স্থানীয় চাহিদা পূরণ ও রফতানিমুখী খাতটিকে শক্তিশালী করতে সরকারের বিশেষ নজর দেয়া জরুরি।’